ইয়ান বুর্খার্টঃ পক্ষাঘাতগ্রস্ত থেকে মুক্তির যাত্রী

ছবিতে দেখানো মানুষটিকে একবার ভালো করে খেয়াল করুন। অখন্ড মনোযোগ আর অধ্যবসায়ের সাথে তিনি যে কিছু করতে চাচ্ছেন তা ছবিটি দেখলেই বোঝা যায়। সেই সাথে তিনি যে আমাদের আর আট-দশজনের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম নন তাও বোঝা যাচ্ছে।
এবার ফিরে যাওয়া যাক ৪ বছর আগে। এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়ান বুর্খার্ট নামের ২৪ বছর বয়সী এ তরুণের (তখন ২০ বছর) ঘাড়ের নিচের অংশ থেকে শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। ঠিক যেন একটি সম্ভাবনার অপমৃত্যু।

1

কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আসলে কার জন্য, কোথায় সম্ভাবনা লুকিয়ে রেখেছেন তা বোঝা বড় দায়। কারণ এরপর বুর্খার্টের সহায়তায় এগিয়ে আসে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি দল। তারা ছেলেটির মস্তিষ্কের লেফট প্রাইমারি মটর কর্টেক্সে একটি ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করেন। মস্তিষ্কের এ অংশটি বিভিন্ন পরিকল্পনা করতে ও দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে। এরপর থেকে ১৫ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে বুর্খার্টকে তিনটি সেশনে অংশ নিয়ে ইমপ্ল্যান্টটির সাথে মস্তিষ্ককে খাপ খাওয়াতে ট্রেনিং নিতে হতো। একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে তার ব্রেইনের কোন ওয়েভ কোন কাজ করতে চায় তা শেখানোও হয়। বুর্খার্টের মস্তিষ্কটি যখন কোনো নির্দিষ্ট সিগনাল দিতো, তখন ইমপ্ল্যান্টটি সেই সিগনালকে তারের সাহায্যে কবজির চারপাশে লাগানো স্লীভে পাঠিয়ে দিতো। সেই সিগনাল থেকেই পেশীগুলো বুঝতে পারতো তাদের কোন কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় বুর্খার্টের নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়াতেই এ বাইপাসের ব্যবস্থা।
কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন বুর্খার্ট বোতল থেকে জারে পানি ঢালা, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা, এমনকি গিটার হিরো ভিডিও গেমটিও খেলতে পারেন!
হাতে কিছুটা শক্তি ফিরে পেলেও হাতের সাহায্যে কোনো কিছু ‘অনুভব’ করার ক্ষমতা কিন্তু বুর্খার্ট এখনো ফিরে পান নি। এটি নিয়ে এখন কাজ করছে আরেকটি দল। সেই দিন হয়তো দূরে নয় যেদিন এ দুটো বিষয়ই একীভূত করা সম্ভব হবে।
আমরা হয়তো কেবল মুখের বিভিন্ন অভিব্যক্তিতে আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে পারবো, কিন্তু বুর্খার্টের মতো মানুষদের কাছে সেটি হবে যেন নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতোই আনন্দময়।

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!