যে স্কুলে নেই কোনো টিচার, নেই টিউশন ফি!

একটি স্কুলের গল্প বলতে আজকের এই লেখাটি লিখছি; টিচার ছাড়া, টিউশন ফ্রি একটি স্কুল!!!
ফ্রান্সের ৪৯ বছর বয়সী বিলিওনিয়ার উদ্যোক্তা জ্যাভিয়ার নীল ফ্রান্সে প্রথম এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, নাম ‘৪২’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত এতে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২,০০,০০০। এর মাঝে মাত্র ২,৫০০ এতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে।
এতক্ষণ তো বললাম ফ্রান্সের কথা। এবার আমেরিকায় আসা যাক। নীল সিলিকন ভ্যালিতেও এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মিতব্য ‘৪২’কে নিয়ে এত মাতামাতির কারণ একটিই। এটি একটি টিউশন ফ্রি স্কুল! একদিকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়, অন্যদিকে টিউশন ফ্রি, কী শেখানো হয় সেখানে?
13241125_1007227765998173_6478243780339539376_n
হাই স্কুল থেকে ঝরে পড়া এবং ফ্রান্সের অন্যতম সফল টেক জায়ান্ট জ্যাভিয়ার নীল যখন প্রথম ২০১৩ সালে ফ্রান্সে স্কুলটি চালু করেন, তখনই তা সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেশ বড় রকমের এক ধাক্কা দিয়েছিলো। কারণ এখানে বেছে বেছে শুধু বিভিন্ন ইনোভেটিভ প্রবলেম সলভারদেরই ভর্তি করা হয়। এর কাজ করার পদ্ধতিটাই একবার দেখুন নাঃ
(১) এখানে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের কোনো হাই-স্কুল ডিপ্লোমা লাগে না কিংবা এখান থেকে বের হলে তাদের কোনো সার্টিফিকেটও দেয়া হয় না। ১৮-৩০ বছর বয়সী যে কেউ এখানে ভর্তি হতে পারবে। এজন্য যুক্তিভিত্তিক এক এন্ট্রান্স এক্সাম দিতে হবে তাকে প্রথমে। সেখানটায় উতরে গেলে মাসব্যাপী ‘পিসিন (piscine)’ নামের আরেকটি ১০০ ঘন্টার সেশন পার হতে হয় তাদের। এরপরই শুরু হয় তাদের ৩-৫ বছরব্যাপী একাডেমিক প্রোগ্রাম।
(২) ‘৪২’ এর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এখানে কোনো টিচারই নেই! শিক্ষার্থীরা ২-৫ জনের বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং চ্যালেঞ্জ সল্ভ করতে লেগে যায়। এমন শিক্ষা পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘পিয়ার টু পিয়ার (Peer to Peer) লার্নিং’। শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহের ৭ দিনই, রাত-দিন ২৪ ঘন্টা সকল কিছু থাকছে উন্মুক্ত, থাকছে আনলিমিটেড ইন্টারনেট অ্যাকসেস। তারা সেখান থেকেই তাদের যা জানা দরকার জেনে নিচ্ছে।
(৩) স্কুলটি এখন যেমন টিউশন ফ্রি আছে, সামনেও তেমনি থাকবে। নীলের আশা, সামনের দিনগুলোতে এর অ্যালামনাইরা একে চালিয়ে নিবে।
‘৪২’ এর ব্যাপারে ইনকোয়ারি করতে গেলে যে ইমেইলটি আসে, তার শুরুর অংশটি বেশ চমৎকার,
“Hello young novice.
Whoever you are, wherever you’re from and whatever you have (or haven’t) done before, you are at the right place. Here, on this starting line, you have neither head start nor handicap on any other candidate at 42. You have all your chances. Really”

যাবেন নাকি ৪২ তে?

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!