রেই – জীবন্ত এক ঘড়ি

সেই ছোটবেলা থেকে ‘সময়ের মূল্য’, ‘অধ্যবসায়’ অথবা ‘শ্রমের মর্যাদা’ রচনাগুলো পড়তে গিয়ে আমাদের একটি প্রবাদ বেশ ভালোভাবেই মুখস্ত হয়ে গিয়েছে- “সময় এবং নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না”। এখানে সময়কে স্রোতের সাথে তুলনা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সময়কে কি স্রোতের মতো করে আসলেই দেখা সম্ভব? প্রশ্নটি বেশ অদ্ভুত, তাই না?
এবার তাহলে দুজন ডিজাইনারের গল্প শোনা যাক যাদের নাম ড্যামজান স্ট্যানকোভিচ এবং মার্কো পাভলোভিচ। প্রায় এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর যেন তারা আসলেই দেখাতে সক্ষম হলেন ‘সময় বহমান’! কীভাবে?

2

3

4
তারা আসলে একটি ঘড়ি বানিয়েছেন। ঘড়িটির নাম রেই (Rhei)। এটি একটি ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল ঘড়ি। সময় বোঝানোর জন্য এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোফ্লুইড (Ferrofluid)। এটি এক ধরণের তরল যা কিনা চৌম্বকক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চুম্বকয়িত হয়ে যায়। এখানে একইসাথে ফেরোম্যাগনেটিক ম্যাটারিয়াল এবং ফ্লুইডের বৈশিষ্ট বিদ্যমান বলেই এর এরুপ নাম দেয়া হয়েছে। যখন কোনো চৌম্বকক্ষেত্রকে এর কাছে আনা হয় তখন এর অবস্থা হয়ে পড়ে অনেকটা জোর করে বিয়ে দিতে যাওয়া কোনো মেয়ের মতো! মেয়েটি হয়তো যেতে চায় তার মনের মানুষের কাছে, কিন্তু তার বাবা-মা তাকে দিতে চায় কোনো কমপ্লিট প্রোডাক্টের হাতে! ঠিক তেমনি এ ফ্লুইডের ম্যাগনেটিক ম্যাটারিয়াল তখন আকৃষ্ট হয় চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে। কিন্তু তরল স্থির থাকতে চায়। সে যেতে চায় না অনিশ্চিত কোনো ভবিষ্যতের দিকে! আর এমন দোটানাতে পড়েই এত চমৎকার এ ঘড়িটির জন্ম!

5

ভিডিও লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=p5b_m6ucpAQ

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!