ফিরে আসছেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি!

১৪৫২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা ছেলেটির পুরো নাম ছিলো লিওনার্দো দি সার পিয়েরো দ্য ভিঞ্চি। সমস্যা হলো, ছেলেটি যতই বড় হতে থাকলো ততই আস্তে আস্তে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকলো সবখানে। তাই লোকজন তার নামটি ছোট করে ডাকতে শুরু করলো- ভিঞ্চি, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি।
1
৬৮ বছর বয়সে মারা যাবার আগে মানুষটির নামের আগে জুড়ে গিয়েছিলো অনেকগুলো উপাধি- উদ্ভাবক, চিত্রশিল্পী, ভাষ্কর, স্থপতি, বিজ্ঞানী ইত্যাদি। এছাড়া সঙ্গীত, গণিত, প্রকৌশলবিদ্যা, সাহিত্য, অ্যানাটমি, ভূতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ইতিহাসের মতো বিষয়েও সমানহারে পান্ডিত্য দেখিয়ে গেছেন তিনি। তাই ঐতিহাসিকেরা তাকে ‘Universal Genius’ কিংবা ‘Renaissance Man’ তকমা দিতে কুন্ঠাবোধ করেন না।
সমস্য হলো, ভিঞ্চি এমন এক সময়ে বাস করতেন যখন প্রযুক্তি আজকের মতো উন্নত ছিলো না। ফলে তার দৈহিক গড়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় তার উপর লেখা বিভিন্ন জীবনী কিংবা তার ছবির উপরই। এ সমস্যাটিকে দূর করতেই এবার এক হয়েছেন বিশ্বের জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা। ‘লিওনার্দো প্রজেক্ট’ এর অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, ভূতত্ত্ববিদ ও চিত্র বিশেষজ্ঞরা আজ একজোট হয়েছেন। সবার লক্ষ্য একটিই, ফিরিয়ে আনতে হবে লিওনার্দোকে! কিন্তু মৃত একজন মানুষকে তো আর কোনোভাবেই ফিরে পাওয়া সম্ভব না, তাহলে তারা আসলে কী করছেন?
এ মানুষগুলো আসলে ভিঞ্চির জিনোম সিকোয়েন্স করার জন্য একজোট হয়েছেন। তারা ভিঞ্চির বই, নোটপ্যাড, তাঁর আকা বিভিন্ন ছবি ও ব্যবহার্য যন্ত্রপাতিতে তাঁর ডিএনএ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট অনুসন্ধান করবেন। এরপর এর সাথে ভিঞ্চির অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন আত্মীয়ের হাড়, চুল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্কিন সেলের সম্মিলন ঘটাবেন তারা।
এতসব কিছু করার উদ্দেশ্য একটিই। ভিঞ্চি আসলে দেখতে কেমন ছিলেন সেটি অনুসন্ধান করা। তাঁর গায়ের রঙ, চোখের রঙ, চুলের রঙ, ওজন, উচ্চতা, মুখের গড়ন, খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য, ব্যক্তিত্ব- এককথায় তথ্যগতভাবে পুরো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকেই ফিরিয়ে আনা হলো এ লিওনার্দো প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য।

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!