সোলার ইমপালস- ২

বিশ্বজুড়ে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার এবং প্রতিনিয়ত তা বেড়েই চলছে। জীবাশ্ম জ্বালানীর চাহিদা বর্তমানে এতটাই যে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বেশ কিছু যুদ্ধ আর সেই সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারন কিছু সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের জ্বালানী সম্পদের প্রতি তীব্র লালসা। এর অবশ্য কারনও আছে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় নিজেদের আধিপত্ত বিস্তারের অন্যতম উপায় হতে পারে পৃথিবীর জ্বালানী সম্পদের উপর আধিপত্ত বিস্তার এবং ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রগুলো তাই করছে। এতে যে যুদ্ধের কারনে শুধু মানুষই মরছে তা না, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার পরিবেশের ওপরেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে যেমন পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ এসব জীবাশ্ম জ্বালানীর মজুদও শেষ হতে চলছে। খুব দ্রুতই যদি আমরা বিকল্প জ্বালানীর দিকে না ঝুঁকি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানী সম্পদ থাকবে না। আমাদের অনাগত প্রজন্মকে এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হতে পারে আমাদের এখনি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার শুরু করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানী বলতে বোঝায়, যে জ্বালানীর উৎস অফুরন্ত এবং যা ব্যবহারের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায় না। যেমন- সূর্যালোক, বাতাস ইত্যাদি।

বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তির পক্ষে ব্যপক জনসচেতনতা তৈরির জন্য সুইজারল্যান্ড গত ০৩ মার্চ, ২০১৫ সালে শুরু করে সোলার ইমপালস- টু অভিযান। এ অভিযানের মূল উদ্দ্যেশ্য ছিলো, কোন জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার ছাড়া, শুধুমাত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করে সমগ্র পৃথিবী পরিভ্রমন করে আসা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের জন্য বিশ্বকে উৎসাহিত করা।

সোলার ইমপালস- টু তার যাত্রা শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবীর আল বাতিন বিমানবন্দর থেকে। যাত্রা শুরুর পর থেকে সোলার ইমপালস- টু প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে ৮ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৩ জুলাই সন্ধ্যার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে পৌছায়। ১৯ মার্চ, ২০১৫ সালে এটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে মায়ানমারের আকাশ সীমায় প্রবেশ করে।
সোলার ইমপালস- টু এর মূল দেহ তৈরি হয়েছে কার্বন ফাইবার দিয়ে। এর মোট ভর ২৩০০ কেজি বা ২.৩ টন। এর উইংস্প্যান ৭১.৯ মিটার। মোট ২৬৯.৫ বর্গমিটার উইং এরিয়ার ওপর ছোট ছোট ১৭,২৪৮ টি ফটোভোল্টেইক সেল লাগানো, যা এ আকাশযানটিকে উড়ার জন্য পর্যাপ্ত শক্তি যোগায়। বিমানটি তৈরি ও এর নিয়ন্ত্রন করছে সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজীর একদল গবেষক।

এক নজরে সোলার ইমপালস- টু

ক্রু- ১ জন
উইংস্প্যান- ৭১.৯ মিটার (২৩৬ ফুট)
উচ্চতা- ৬.৩৭ মিটার (২০.৯ ফুট)
উইং এরিয়া- ২৬৯.৫ বর্গমিটার
ফটোভোল্টেইক সেল- ১৭,২৪৮ টি
ভর- ২৩০০ কেজি
পাওয়ারপ্লান্ট- ৪*ইলেক্ট্রিক মটর
৪*৪১ KWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারী
প্রপেলার ডায়ামিটার- ৪ মিটার
টেক-অফ স্পীড- ৩৬ কিলোমিটার/ঘন্টা
সর্বোচ্চ গতি- ১৪০ কিলোমিটার/ঘন্টা
ক্রুজ স্পীড- ৯০ কিলোমিটার/ঘন্টা (৬০ কিলোমিটার/ঘন্টা, রাতে। ব্যাটারীর শক্তি সঞ্চয়ের জন্য এটি রাতে কম গতিতে চলে)

বর্তমানে সোলার ইমপালস- টু হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থান করছে। এখানে এর প্রয়োজনীয় মেইনটেনেন্স অপারেশন করা হবে। এর ব্যাটারীগুলো খুব উত্তপ্ত হয়ে পরায় এর ব্যাটারীগুলো পাল্টানো হবে। এপ্রিল, ২০১৬ তে পুনরায় এর যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। যাত্রা শুরুর পর এটি আবারো আবুধাবীতে যাবে, যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিলো।

সুত্র- www.solarimpulse.com

-মাসুদ ফেরদৌস ইশান
এ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!