Renin-Angiotensin-Aldosterone System

দেহে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিডনির প্রাথমিক ভূমিকাটি হল একস্ট্রা সেলুলার ফ্লুয়িড অর্থাৎ কোষের বাইরের মাতৃকার পরিমাণে পরিবর্তন আনা। এই কাজটির পাশাপাশি আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিডনি আমাদের শরীরে করে থাকে, সেটির উদ্দেশ্য রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে তাকে বাড়িয়ে দেওয়া। আজকের আলোচ্য বিষয় এটাই- রেনিন অ্যানজিওটেনসিন অ্যাল্ডোস্টেরন সিস্টেম।

রেনিন একটি প্রোটিনধর্মী এনজাইম। কিডনির জাক্সটাগ্লোমেরুলার কোষসমূহে রেনিন সংশ্লেষিত হয় এবং সঞ্চিত হয় তবে প্রথমেই রেনিন হিসেবে সে উৎপাদিত হয় না। প্রো- রেনিন হিসেবে সে সংশ্লেষিত হয় যেটি নিষ্ক্রিয় থাকে। জাক্সটাগ্লোমেরুলার কোষগুলো প্রকৃতপক্ষে বিশেষায়িত মসৃণ পেশী কোষ যেগুলো গ্লোমেরুলাসের অব্যবহিত নিকটের অ্যাফারেন্ট আর্টারিওলের (একটি বিশেষ ধমনী) প্রাচীরে থাকে। যখন আমাদের দেহে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় তখন কিডনির কিছু অন্তর্নিহিত বিক্রিয়ার দরুন জাক্সটাগ্লোমেরুলার কোষ থেকে প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম রেনিন নিঃসৃত হয়। এই নিঃসৃত রেনিনের বেশিরভাগই চলে যায় রেনাল রক্তপ্রবাহের মাধ্যমের সারা শরীরে আর কিছু অংশ কিডনিতেই থেকে যায় বিভিন্ন কাজকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য।

রেনিন নিজে কোনো ধরণের ভ্যাসোকেটিভ উপাদান নয়। অর্থাৎ তার নিজের কোনো ক্ষমতাই নেই রক্তনালীর সংকোচন বা প্রাসারণ ঘটানোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার। রেনিন মূলত একটি এনজাইম বা উৎসেচক। যেহেতু রেনিন একটি এনজাইম তাহলে অবশ্যই তার কোনো না কোনো যৌগ লাগবে যার উপর সে কাজ করবে। রেনিন যে যৌগটির উপর কাজ করে সেটি একটি গ্লোবিউলিন প্রোটিন যার নাম অ্যানজিওটেনসিনোজেন। এর উপর রেনিনের কাজ করার ফলে অ্যানজিওটেনসিন- I নিঃসৃত হয় যাতে থাকে ১০ টি অ্যামিনো এসিড। অ্যানজিওটেনসিন- I একটি মৃদু ভ্যাসোকন্সট্রিক্টর অর্থাৎ যার রক্তনালীর সংকোচন ঘটানোর ক্ষমতা আছে কিন্তু এটির কর্মক্ষমতা রক্তসংবহন তন্ত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে না। রেনিন প্রায় ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা অবধি রক্তে থাকে আরও বেশি করে অ্যানজিওটেনসিন- I  তৈরীর জন্য। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রায় কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যানজিওটেনসিন- I থেকে ২ টি অ্যামিনো এসিড বের হয়ে ৮ টি অ্যামিনো এসিড বিশিষ্ট অ্যানজিওটেনসিন- II তৈরী হয়ে যায়। এই কাজটির প্রায় পুরোটাই হয়ে থাকে ফুসফুসে একটি কনভার্টিং এনজাইমের প্রভাবে যেটি ফুসফুস গহ্বরের এন্ডোথেলিয়ামে উপস্থিত থাকে।

 

renin angiotensin aldosterone system এর চিত্র ফলাফল

 

অ্যানজিওটেনসিন- II হল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ভ্যাসোকন্সট্রিক্টর যেটি রক্তে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটের মত থাকে কারণ নানা ধরণের রক্ত এবং টিস্যুর এনজাইমের কারণে এটি খুব দ্রুতই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে যাদেরকে একত্রে অ্যানজিওটেনসিনেজেস বলা হয়ে থাকে। অ্যানজিওটেনসিন- II এর প্রধানত দুটি কাজ আছে। প্রথমত, এটি দেহের বিভিন্ন অঞ্চলের ধমনীর সংকোচন ঘটায় যার কারণে সমগ্র দেহে রক্তের পরিমাণ একই থাকলেও চলাচলের ক্ষেত্র কমে যায়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, কিডনির লবণ এবং পানি ত্যাগের হারকে  অ্যানজিওটেনসিন- II কমিয়ে দেয়; যার দরুন এক্সট্রাসেলুলার ফ্লুয়িড এর আয়তন বেড়ে যায় এবং এর ফলে চূড়ান্তভাবে ধমনীর ভেতর রক্তের চাপ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্রঃ

https://en.wikipedia.org/wiki/Renin–angiotensin_system

https://global.britannica.com/science/renin-angiotensin-system

Facebook Comments
Please follow and like us:
250

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!